অনন্ত জীবন যদি পাই আমি - জীবনানন্দ দাশ

অনন্ত জীবন যদি পাই আমি—তাহ’লে অনন্তকাল একা



পৃথিবীর পথে আমি ফিরি যদি দেখিব সবুজ ঘাস





ফুটে উঠে—দেখিব হলুদ ঘাস ঝরে যায়—দেখিব আকাশ

শাদা হয়ে উঠে ভোরে—ছেঁড়া মুনিয়ার মত রাঙা রক্ত—রেখা

লেগে থাকে বুকে তার সন্ধ্যায়—বারবার নক্ষত্রের দেখা

পাব আমি; দেখিব অচেনা নারী আলগা খোঁপার ফাঁস

খুলে ফেলে চলে যায়—মুখে তার নাই আহা গোধূলির নরম আভাস।



অনন্ত জীবন যদি পাই আমি—তাহ’লে অসীমকাল একা

পৃথিবীর পথে যদি ফিরি আমি—ট্রাম বাস ধুলো

দেখিব অনেক আমি—দেখিব অনেকগুলো

বস্তি, হাট—এঁদো গলি, ভাঙ্গা কলকী হাড়ী

মারামারি, গালাগালি, ট্যারা চোখ, পচা চিংড়ি—কত কি দেখিব নাহি লেখা

তবুও তোমার সাথে অনন্তকালেও আর হবে নাকো’ দেখা।



অনিবার

- জীবনানন্দ দাশ

যেখানে রয়েছে আলো পাহাড় জলের সমবায়-

তবুও সেখানে যদি আবিষ্কার করি প্যারাফিন

অনেক মাটির নীচে,- অথবা সেখানে যদি সংগ্রাম-বিলীন

অজস্র অস্পষ্ট মুণ্ড অনুকম্পা হৃদয়ে জাগায়,

তাহ'লে প্রভাত এলে মনিয়া পাখিরা পিছে কি করে' বালক

ভেসে যাবে উজ্জ্বল জলবিম্বের মত হেসে?

কি ক'রে বা নাগরিক নিজের নারীকে ভালোবেসে

জেনে নেবে হেমন্তের সন্ধ্যার আলোকে

গ্যাস আর নক্ষত্রের লিপ্সা থেকে জেগে

যারা চায় তাহাদের কাছে তবু স্মিত সমন্বয়?

মৃথেদ উপেক্ষিত পীত দেহ- বলো,- ক্ষমাময়।

বৃত্তের মতন- এসো,- ঘুরি মোরা বঙ্কিম আবেগে।