অভিভাবিকা - জীবনানন্দ দাশ

তবুও যখন মৃত্যু হবে উপস্থিত

আর-একটি প্রভাতের হয়তো বা অন্যতর বিস্তীর্ণতায়,-

মনে হবে

অনেক প্রতীক্ষা মোরা ক'রে গেছি পৃথিবীতে

চোয়ালের মাংস ক্রমে ক্ষীণ ক'রে

কোনো এক বিশীর্ণ কাকের অক্ষি-গোলকের সাথে

আঁখি-তারকার সব সমাহার এক দেখে;

তবু লঘু হাস্যে- সন্তানের জন্ম দিয়ে-

তারা আমাদের মতো হবে- সেই কথা জেনে- ভুলে গিয়ে-

লোল হাস্যে জলের তরঙ্গ মোরা শুনে গেছি আমাদের প্রাণের ভিতর,

নব শিকড়ের স্বাদ অনুভব ক'রে গেছি- ভোরের স্ফটিক রৌদ্রে।

অনেক গন্ধর্ব, নাগ, কুকুর, কিন্নর, পঙ্গপাল

বহুবিধ জন্তুর কপাল।

উন্মোচিত হ'য়ে বিরুদ্ধে দাঁড়ায়ে থাকে পথ- পথান্তরে,

তবু ওই নীলিমাকে প্রিয় অভিভাবিকার মতো মনে হয়,

হাতে তার তুলাদণ্ড;

শান্ত- স্থির;

মুখের প্রতিজ্ঞাপাশে নির্জন, নীলাভ বৃত্তি ছাড়া কিছু নেই।

যেন তার কাছে জীবনের অভ্যুদয়

মধ্য সমুদ্রের 'পরে অনুকূল বাতাসের প্ররোচনাময়

কোনো এক ক্রীড়া- ক্রীড়া;-

বেরিলমণির মতো তরঙ্গের উজ্জ্বল আঘাতে মৃত্যু।

স্থির- শুভ্র- নৈসর্গিক কথা বলিবার অবসর।







কাব্যগ্রন্থ - সাতটি তারার তিমির