আদিম দেবতারা - জীবনানন্দ দাশ

আগুন বাতাস জল : আদিম দেবতারা তাদের সর্পিল পরিহাসে

তোমাকে দিলো রূপ-

কী ভয়াবহ নির্জন রূপ তোমাকে দিলো তারা;

তোমার সংস্পর্শের মানুষদের রক্তে দিলো মাছির মতো কামনা৷



আগুন বাতাস জল : আদিম দেবতারা তাদের বঙ্কিম পরিহাসে

আমাকে দিলো লিপি রচনা করবার আবেগঃ

যেন আমিও আগুন বাতাস জল

যেন তোমাকেও সৃষ্টি করছি।



তোমার মুখের রূপ যেন রক্ত নয়, মাংস নয়, কামনা নয়,

নিশীথ-দেবদারু-দ্বীপ;

কোনো দূর নির্জন নীলাভ দ্বীপ



স্থুল হাতে ব্যবহৃত হ’য়ে তবু

তুমি মাটির পৃথিবীতে হারিয়ে যাচ্ছো;

আমি হারিয়ে যাচ্ছি সুদূর দ্বীপের নক্ষত্রের ছায়ার ভিতর।



আগুন বাতাস জল : আদিম দেবতারা তাদের বঙ্কিম পরিহাসে

রূপের বীজ ছড়িয়ে চলে পৃথিবীতে

ছড়িয়ে চলে স্বপ্নের বীজ।

অবাক হয়ে ভাবি

আজ রাতে কোথায় তুমি?

রূপ কেন নির্জন দেবদারু-দ্বীপের নক্ষত্রের ছায়া চেনে না-

পৃথিবীর সেই মানুষীর রূপ?

স্থুল হাতে ব্যবহৃত হ’য়ে- ব্যবহৃত –ব্যবহৃত –ব্যবহৃত –ব্যবহৃত –হয়ে

ব্যবহৃত –ব্যবহৃত –

আগুন বাতাস জল : আদিম দেবতারা হো_ হো ক’রে হেসে উঠলোঃ

‘ব্যবহৃত – ব্যবহৃত হ’য়ে শুয়োরের মাংস হয়ে যায়?’



হো হো করে হেসে উঠলাম আমি!-

চারিদিককার অট্টহাসির ভিতর একটা বিরাট তিমির মৃতদেহ নিয়ে

অন্ধকার সমুদ্র স্ফীত হ’য়ে উঠলো যেন;

পৃথিবীর সমস্ত রূপ অমেয় তিমির মৃতহেদের দূর্গন্ধের মতো,

যেখানেই যাই আমি সেই সব সমুদ্রের উল্কায় – উল্কায়

কেমন স্বাভাবিক, কী স্বাভাবিক!