একদিন পৃথিবীর পথে - জীবনানন্দ দাশ

একদিন পৃথিবীর পথে আমি ফেলিয়াছি, আমার শরীর

নরম ঘাসের পথে হাঁটিয়াছে; বসিয়াছে ঘাসে

দেখিয়াছে নক্ষত্রের জোনাকিপোকার মতো কৌতুকের অমেয় আকাশে

খেলা করে; নদীর জলের গন্ধে ভরে যায় ভিজে স্নিগ্ধ তীর

অন্ধকারে; পথে পথে শব্দ পাই কাহাদের নরম শাড়ির,

স্লান চুল দেখা যায়; সান্ত্বনার কথা নিয়ে কারা আসে –

ধূসর কড়ির মতো হাতগুলো — নগ্ন হাত সন্ধ্যার বাতাসে

দেখা যায়: হলুদ ঘাসের কাছে মরা হিম প্রজাপতিটির



সুন্দর করুণ পাখা পড়ে আছে — দেখি আমি; — চুপে থেমে থাকি;

আকাশে কমলা রঙ ফুটে ওঠে সন্ধ্যায় — কাকগুলো নীল মনে হয়;

অনেক লোকের ভিড়ে ডুবে যাই — কথা কই — হাতে হাত রাখি;

করুণ বিষন্ন চুলে কার যেন কোথাকার গভীর বিষ্ময়

লুকায়ে রয়েছে বুঝি… নক্ষত্রের নিচে আমি ঘুমাই একাকী;

পেঁচার ধূসর ডানা সারারাত জোনাকির সাথে কথা কয়।