কবিতা - জীবনানন্দ দাশ

আমাদের হাড়ে এক নির্ধূম আনন্দ আছে জেনে

পঙ্কিল সময়স্রোতে চলিতেছে ভেসে;

তা না হ'লে সকলি হারায়ে যেতো ক্ষমাহীন রক্তের- নিরুদ্দেশে।

হে আকাশ, একদিন ছিলে তুমি প্রভাতের তটিনীর;

তারপর হ'য়ে গেছ দূর মেরুনিশীথের স্তব্ধ সমুদ্রের।

ভোরবেলা পাখিদের গানে তাই ভ্রান্তি নেই,

নেই কোনো নিস্ফলতা আলোকের পতঙ্গের প্রাণে।

বানরী ছাগল নিয়ে যে- ভিক্ষুক প্রতারিত রাজপথে ফেরে-

আঁজলায় স্থির শান্ত সলিলের অন্ধকারে-

খুঁজে পায় জিজ্ঞাসার মানে।

চামচিকা যার হয় নিরালোকে ওপারের বায়ুসন্তরণে;

প্রান্তরের অমরতা জেগে ওঠে একরাশ প্রাদেশিক ঘাসের উন্মেষে;

জীর্ণতম সমাধির ভাঙ্গা ইঁট অসম্ভব পরগাছা ঘেঁষে

সবুজ সোনালিচোখ ঝিঁঝিঁ-দম্পতির ক্ষুধা করে আবিষ্কার

একটি বাদুড় দূর স্বোপার্জিত জ্যোৎস্নার মনীষায় ডেকে নিয়ে যায়

যাহাদের যতদূর চক্রবাল আছে লভিবার।

হে আকাশ, হে আকাশ,

একদিন ছিলে তুনি মেরুনিশীথের স্তব্ধ সমুদ্রের মতো;

তারপর হ'য়ে গেছ প্রভাতের নদীটির মতো প্রতিভার!







কাব্যগ্রন্থ - সাতটি তারার তিমির