পাপ ও দুঃখের কথা ছাড়া আর কিছুই থাকে না - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়---আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি 

পাপ ও দুঃখের কথা ছাড়া আর কিছুই থাকে না

আয়না

ভেঙে

বিচ্ছুরণ

একদিন

বিস্ফোরণ হয়

বুক ভেঙে কান্না এলে কান্নাগুলি ছুটে যায় ধূসর অন্তিমে স্বর্গের অলিন্দে-

স্বর্গ থেকে

তারপর ঢলে পড়ে

মহিম হালদার স্ট্রীটে

প্রাচীন গহ্বরে

মধ্যরাতে।



জানলা ভেঙে বৃষ্টি এলে বুকে যে-রকম পাপ হয়

যে-রকম স্মৃতিহীন মহিম হালদার কিংবা আমি ও মোহিনী

পুরুষের ভাগ্য আর স্ত্রী-শরীর চরিত্র নদীর……

দীপকের মাথাব্যথা হাঁসের পালক ছুঁয়ে হাসাহাসি করে

যে-রকম শান্তিনিকেতন কোনো ত্রিভুবনে নেই

দীপক ও তারাপদ দুই কম্বুকন্ঠ জেগে রয়…….

যে রকম তারাপদ গান গায় গোটা উপন্যাসে সুর দেয়া

কবিতার লাইন ছুঁড়ে পাগলা-ঘন্টি বাজিয়ে ঘুরেছে-



নিকষ বৃত্তের থেকে চোখগুলি ঘোরে ও ঘুমোয়,

শিয়রে পায়ের কাছে বই-বই-বই

তিন জোড়া লাথির ঘায়ে রবীন্দ্র-রচনাবলী লুটোয় পাপোশে।

আরো নিজে পাপোশের নিচে এক আহিরীটোলায়

বৃষ্টি পড়ে,

রোদ আসে,

বিড়ালীর সঙ্গে খেলে

বেজম্মা বালিকা-

ছাদে পায়চারি করে গিরগিটি,



শেয়াল ঢুকেছে নীল আলো-জ্বালা গরে

রমণী দমন করে বিশাল পুরুষ তবু কবিতার কাছে অসহায়-

থুতু ও পেচ্ছাব সেরে নর্দমার পাশে বসে কাঁদে-



এ-রকম ছবি দেখে বাতাস অসহ্য হয় বুকের ভিতরে খুব

কশা অভিমানে

শব্দ অপমান করে- ভয় আমাক নিয়ে যায় পুনরায় দক্ষিণ নগরে

মহিম হালদার স্ট্রীটে ঘুরে ফিরে ঘুরে আমি মহিম, মহিম

বলে ডাকাডাকি করি, কেই নেই, মহিম, মহিম, এসো তুমি আর

আমি ও মোহিনী

ফের খেলা শুরু করি, মহিম! মোহিনী।

কোনো সাড়া নেই। ক্রমশ গম্ভীর হয় বাড়িগুলি, আলো

হাড় হিম হয়ে আসে স্মৃতিনষ্ট শীতে।।