জুয়া - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়---আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি 

অত্যান্ত ঠান্ডা মাথায় জীবন বদলে নিলাম আমি ও নিখিলেশ,

হাতঘড়ি ও কলম, পকেট বই, রুমাল-

রেডিওতে পাঁচটা বাজলো, আচ্ছা কাল

দেখা হবে,- বিদায় নিলাম,- সন্ধেবেলার রক্তবর্ণ বাতাস ও শেষ

শীতের মধ্যে, একা সিঁড়ি দিয়ে নামবার

সময় মনে পড়লো- ঠিকানা ও টেলিফোন নাম্বার

এসবও বদলানো দরকার, যেমন মুখভঙ্গী ও দুঃখ, হাসির মুহূর্ত

নিখিলেশ ক্রুদ্ধ ও উদাসীন, এবং কিছুটা ধূর্ত।



হাল্‌কা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আমি নিখিলেশ হয়ে বহুদূর

হেঁটে গেলাম, নতুন গোধূলি ও রাত্রি, বাড়ি ও দরজা এমনটি অন্তঃপুর



ঘুঁমোবার আগে চুরুট, ঘুমের গভীরতা ও জাগরণ-

ছ’লক্ষ অ্যালার্ম ঘড়ি কলকাতার হিম আস্তরণ

ভাঙার আগেই আমি, অর্থাৎ নিখিলেশ, টেলিফোনে নিখিলেশ

অর্থাৎ সুনীলকে

ডেকে বলি, তুই কি রোড কন্ডেন্স্‌ড্‌ মিল্কে

চা খেতিস? বদ গন্ধ, তা হোক! আমি অর্থাৎ পুরোনো সুনীল,

নিখিলেশ এখন,

তোর অর্থাৎ পুরোনো নিখিল অর্থাৎ নতুন সুনীলের সিংহাসন

এবং হৃঃপিন্ড ও শোণিত

পেতে চাই, তোর পুরোনো ভবিষ্যৎ কিংবা আমার নতুন অতীত

তোর নতুন অতীতের মধ্যে, আমার পুরোনো ভবিষ্যতে

(কিংবা তোর ভবিষ্যতে আমার অতীত কোনো পঞ্চম অতীত ভবিষ্যতে)

কিংবা তোর নিঃসঙ্গতা, আমার না-বেঁচে-থাকা হৈ-হৈ জগতে

দু’রকম স্মৃতি ও বিস্মরণ, যেন স্বপ্ন কিংবা স্পপ্ন বদলের

বীয়ার ও রামের নেশা, বন্ধুহীন, বন্ধু ও দলের

আড়ালে প্রেম ও প্রেমহীনতা, দুঃখ ও দুঃখের মতো অবিশ্বাস

জীবনের তীব্র চুপ, যে-রকম মৃতের নিঃশ্বাস,-

লোভ ও শান্তির মুখোমুখি এসে আমার পূজা ও নারীহত্যা

তোর দিকে, রক্ত ও সৃষ্টির মধ্যে আমি অগত্যা

প্রেমিকার দিকে যাবো, স্তনের ওপরে মুখ, মুখ নয়, ধ্যান ও অসি’রতা

এক জীবনে, ঊরুর সামনে ঊরু, ঊরু নয়, যোনির সামনে লিঙ্গ, অশরীরী,

ঘৃণা ও মমতা

অসম্ভব তান্ডব কিংবা চেয়ে দেখা মুহূর্তের রৌদ্রে কোনো কুরূপা অস্পরী

শীত করলে অন্ধকারে শোবে। দুপুরে হঠাৎ রাস্তায় আমি তোকে

সুনীল সুনীল বলে ডেকে উঠবো, পুরোনো আমার নামে, দেখতে চাই চোখে

একশো আট পল্লব কাঁপে কি না, কতটা বাতাস লাগে গালে ও হৃদয়ে

ক’হাজার আলপিন, কত রূপান্তর জন্মে, শোকে পরাজয়ে,

সুখ, সুখ নয় পাপ, পাপ নয়, দোলে, দোলে না, ভাঙে, ভাঙে না, মৃত্যু, স্রোতে

আমি, ও আমার মতো, আমার মতো ও আমি, আমি নয়,

এক জীবন দৌড়াতে দৌড়াতে।।