চোখ বিষয়ে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়---আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি 

আমি তোমাদের কোন্‌ অনন্ত ছায়ায়

শুয়ে আছি, শুয়ে রবো, আমি তোমাদের

থেকে বহু দুরে তবু ছায়ার ভিতরে

শুয়ে আছি, জেগে আছি, শিয়রে ও পায়ে

ছায়া পড়ে, ছায়া কাঁপে, চোখের ছায়ায়

মাছ খেলা করে, ভাসে, আমি তোমাদের

মাছের মতন চোখ ছায়ার সাঁতারে

তুলে আনি, তোমাদের গোলাপজামের

মতো চোষ ভালোবাসি, মুখে দিই, দাঁতে

‘তোমাদের’ ভালোবাসাময় চোখগুলি

ভেঙে যায়, মিশে যায়, হেমন্ত বেলায়

শিরীষ ফুলের মতো তোমাদের চোখ

আমাকে পালন করে গোধুলি ছায়ায়।



‘তোমাদের’ শব্দটিতে অনেক কুয়াশা

যেমন শব্দের কাছে নীরবতা ঋণী

যেমন নীরব ফুল সব বন্দনার

চেয়ে শ্রেষ্ঠ, ভ্রষ্ট ফুল যেমন বুকের

কাছে হাত জোড় করে, ছায়ায় শয়ান

ফুল ও বুকের চেয়ে কোমল পাছার

সঙ্গীতের মতো ভঙ্গি যেমন অনেক

দূর মনে হয়, আমি মনের কুয়াশা

‘তোমাদের’ মুখে রাখি, তোমাদের চোখ

কাজলের মতো লাগে, চোখে চোখে ছুঁয়ে

আমি দেখি, শুয়ে থাকি, যেন বিপুলের

ভিতরে নিঃস্বতা কাঁপে, চঞ্চলতা যেন

ছায়ায় গোপন, মুখ মুখশ্রী লুকোয়-

মুখের ভিতরে চোষ ভাঙে মিশে যায়।।